শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

দাবানলে যেন দোজখের আঁচ

 à¦—ণঅভ্যুত্থানের পর স্বদেশে বহুবিধ ইস্যুর আবির্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। মুক্ত পরিবেশে মানুষ এখন প্রাণখুলে কথা বলছেন। তীর্যক ভাষায় প্রকাশ করছেন নানা দাবির পক্ষে যুক্তিনামা। ছোট-বড়, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবার বাগ্মীতা এখন লক্ষ্য করার মত। ফ্যাসিবাদের পতনের পর গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এমন চিত্রই স্বাভাবিক। মানুষের আপন ভুবনে এবং গণমাধ্যমের পরিসরে স্বদেশের খবরাখবরই এখন প্রধান এবং প্রবল। ফলে আন্তর্জাতিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ খবরই আমাদের বিবেচনার বাইরে থাকছে। নইলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ভয়াবহ দাবানলের খবর এতটা কম গুরুত্ব পেতো না। 

à§­ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দাবানল এখনো অব্যাহত রয়েছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়, টানা চারদিন ধরে দাবানলে জ¦à¦²à¦›à§‡ লস অ্যাঞ্জেলস শহর। শত চেষ্টার পরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না আগুন। পুড়ে ছারখার হচ্ছে এলাকার পর এলাকা। লেলিহানে চারদিনেই à§§à§« হাজার কোটি ডলারের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মানুষের প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। এসবতো à§§à§§ জানুয়ারির খবর, আজ ১৬ জানুয়ারিতে হয়তো ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্রের মত প্রাগ্রসর দেশের কিছু মানুষ চরম অনৈতিকতা ও নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছে। তারা লুটপাটে মত্ত হয়েছে, ফলে কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।

১৪ জানুয়ারি প্রকাশিত খবরে জানা যায়, দাবানলে মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্যারাডাইস প্যালিসেডস এলাকা। সেখানকার ২৩ হাজার একরের বেশি জায়গা পুড়ে গেছে। ইটনে পুড়েছে ১৪ হাজার একর এলাকা। এছাড়া হার্স্ট এলাকায় পুড়েছে আরও ৭৯৯ একর এলাকা। দাবানলের কারণে লস অ্যাঞ্জেলেসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসকে বিবেচনা করা হয় হলিউডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে। 

এছাড়া এটিই আমেরিকার প্রধান বিনোদন কেন্দ্র। সেখানেই জ¦à¦²à¦›à§‡ দাবানলের ভয়াবহ আগুন। পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে লস অ্যাঞ্জেলেসের বিশাল এলাকা। ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই দাবানলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হলিউড তারকারা। জ্যামি লি কার্টিস, জেমস উডস, ম্যান্ডি মুর, মার্ক হ্যামিল, মারিয়া লিভারসহ বেশ কজন তারকা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক বর্ণনা দিয়েছেন। পুড়ে গেছে খ্যাতিমান হলিউড তারকা অ্যান্টনি হপকিন্সের বিলাসবহুল প্রাসাদসহ আরও অনেকের বাড়ি। পৃথিবীর সবচাইতে ধনী ও ক্ষমতাবান রাষ্ট্র আমেরিকা তার নাগরিকদের রক্ষা করতে পারছে না দাবানলের কবল থেকে। এক অসহায় অবস্থায় পতিত হয়েছে দেশটি। তবে সর্বশক্তি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করছে তার নাগরিকদের বাঁচাতে।

দাবানলটির ভয়াবহতায় বিস্মিত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। এমন ভয়াবহতার কথা তাঁরা কল্পনাও করতে পারেননি। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, দাবানলে প্রায় ১৬ হাজার বাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক লাখ বাড়ি। কর্তৃপক্ষ প্রায় দেড় লক্ষ মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে। এই তালিকায় আরও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন ৮০ হাজার মানুষ। দাবানলের এমন ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্র আগে কখনো দেখেনি। বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে প্রাগ্রসর দেশটি প্রায় ৯০টি এয়ারক্রাফ্টস দিয়ে পানি ছিটিয়ে দাবানল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, কিন্তু সক্ষম হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ দাবানলটিকে ‘শয়তানের বাতাস’ বলে আখ্যায়িত করছেন। কেন লস অ্যাঞ্জেলেসে এমন ভয়াবহ দাবানল, এমন প্রশ্ন জেগেছে আমেরিকার মানুষের মনেও। দাবানল আমেরিকায় নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু অকল্পনীয় এমন দাবানল মার্কিনীরা কখনো দেখেননি। এত ধ্বংস ও বিপর্যয়ের ভার বহন তাদের জন্য খুবই কষ্টকর। সাজানো-গোছানো বিলাসবহুল বাড়ি যখন পুড়ে ছাই হয়ে যায়, তখন উপলব্ধিতে এসে যায় বহু বিষয়। যে লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানলের তা-ব চলছে, তার পরিচয় কী? শহরটি ‘পাপের নগরী’ হিসেবে পরিচিত। এখানেইতো অশ্লীল ছবি, নীলছবি, নুডছবির কারখানা। মাদক চর্চার জন্যও বিখ্যাত। অনেক মার্কিনী এখন বলছেন, কর্মের প্রতিফল এই ‘শয়তানের বাতাস’। যা তাদের আত্মোপোলব্ধি বলা যায়।

অশ্লীলতাজনিত পাপবোধ ছাড়াও অন্য একটি বিষয় অনেক মার্কিনীর মনে গভীর দাগ কেটেছে। তারা বলছেন, ফিলিস্তিনীদের না দেখার কারণে এখন ঈশ^র আমাদের ফিলিস্তিন দেখাচ্ছেন। অর্থাৎ প্রতিনিয়ত মার্কিন সহযোগিতায় ইসারাইল ফিলিস্তিনীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করেছে, জ¦à¦¾à¦²à¦¿à§Ÿà§‡ দিয়েছে। তাদের উদ্বাস্তু হতে বাধ্য করেছে। এখন ফিলিস্তিনীদের সেই দুর্ভোগের স্বাদ গ্রহণ করতে হচ্ছে বহু মার্কিনীকে। তবে কোনো মিসাইল বা বোমার আঘাতে মার্কিনীদের বাড়িঘর বিধ্বস্ত হচ্ছে না। সব ধ্বংস হচ্ছে উপর থেকে আবির্ভূত দাবানলে। বিনা মিসাইলে ¯à§à¦°à¦·à§à¦Ÿà¦¾à¦° আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। আমরা তা নিভাতে অক্ষম।

অনেক মার্কিনীর উপলব্ধিতে এখন ‘পাপের নগরী’ এবং ‘ফিলিস্তিন ধ্বংস’ বিষয়টি বড় হয়ে উঠেছে। বিষয় দুটি বড় হওয়ার মতই। ‘পাপ’ এবং ‘জুলুম’ দুনিয়ার আদালতেও বড় অপরাধ, ¯à§à¦°à¦·à§à¦Ÿà¦¾à¦° আদালতেও হবে তার কঠিন হিসাব। এ থেকে বাঁচার উপায় হলো তওবা বা সংশোধন। যুক্তরাষ্ট্রের বহু নাগরিক এখন সেই তওবার পথে যেতে চান, সরকার সেই পথে যাবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

দাবানল কোনো প্রিয় বিষয় নয়। দাবানলের তান্ডবে জনপদ ধ্বংস হয়ে যায়। মানুষ দোজখের আঁচ কিছুটা উপলব্ধি করে। স্বাভাবিক জীবন-যাপন থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের মানুষ এখন বঞ্চিত। ধ্বংসের নগরী গাজার মানুষদের দুঃখ-কষ্ট ও বঞ্চনার বিষয়টি কিছুটা হলেও এখন তারা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে। আমরা লস অ্যাঞ্জেলেসের বিপর্যস্ত মানুষদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। কামনা করছি, তারা যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে-যাপনে ফিরে আসতে পারেন। কারণ বহু মার্কিন ছাত্র-জনতা ফিলিস্তিনীদের পক্ষে কথা বলেছেন। তাদের স্বাভাবিক জীবন চেয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে আমরা শুভশক্তির বিজয় চাই। আর এটাই শান্তিপ্রিয় বিশ^বাসীর প্রত্যাশা।

দাবানল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখন অনেক আলোচনা হচ্ছে। তারা বলছেন, দাবানল হতে পারে তিন কারণে। যেমন বজ্রপাত, বিদ্যুৎ তারের সংশ্লেষ এবং মানব-তৎপরতা। প্রথম দু’টি কারণ এবারের দাবানলে লক্ষ্য করা যায়নি। এখন হয়তো তৃতীয় কারণটি নিয়ে তারা অনুসন্ধান করবেন। পৃথিবীতে অনেক ঘটনাই ঘটে যায়, যা বেশ রহস্যজনক। তবে সবকিছুই থাকে মহান ¯à§à¦°à¦·à§à¦Ÿà¦¾à¦° অবগতির মধ্যে। দাবানলের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো ভালো খবর নেই। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বাতাসের গতি আরও বাড়তে পারে। তাহলে তো দাবানলের মাত্রাও বেড়ে যাবে। এখন একমাত্র বৃষ্টিই নিভাতে পারে দাবানল। তবে তার জন্য ধর্না দিতে হবে মহান স্রষ্টার কাছেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ